বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০৭:১০ অপরাহ্ন

সক্ষমতা না বাড়িয়ে বিদেশিদের আসতে দিলে জুয়েলারি শিল্প ভেঙে পড়বে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১০৭ বার পঠিত

সভাপতি হিসেবে মাত্রই দায়িত্ব পেয়েছেন। পথ অনেক। লক্ষ্য কী জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ও শারমীন জুয়েলার্সের কর্ণধার এনামুল হক খান দোলন বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বর্ণ নীতিমালা উপহার দিয়েছেন, তা কার্যকর করা। এটাকে প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সোনা আমদানির লাইসেন্স ইস্যু করা। আর সব শেষ লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের প্রতি প্রান্তে মানুষের কাছে সোনা পৌঁছে দেওয়া।’

ভারতের কয়েকটি কম্পানি বাংলাদেশে সোনা ব্যবসা করার জন্য চেষ্টা করছে। এতে দেশের স্বর্ণ শিল্পী বা ব্যবসায়ীরা কতটুকু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে জানতে চাইলে বাজুসের সভাপতি বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না। পলিসির মাধ্যমে, বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এটি মোকাবেলা করতে হবে, টিকে থাকতে হবে। এখানে যদি কেউ আসতে চায়, তাহলে তাকে কোনোভাবে বাধা দেওয়ার আইনগত অধিকার আমাদের নেই। বাধা দিতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পলিসি হলো, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের সুযোগ দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা যদি আমাদের বৃদ্ধি না পায়, তাহলে বিদেশে আমরা সোনা রপ্তানি করতে পারব না। আমরা এদিক থেকে অনেক পিছিয়ে যাব। তাই কিছু দিনের জন্য হলেও জুয়েলারি ইমপোর্ট ট্যাক্স (পিওর গোল্ড) বাড়িয়ে দিতে হবে। আর এটি বাড়িয়ে দিলেই বিদেশি কম্পানিগুলো এখানে আসতে পারবে না। আইনগতভাবে আমি বিদেশি কম্পানিকে বাধা দিতে পারব না। কিন্তু যেকোনো মূল্যে পাঁচ বছরের জন্য এদের রুখতে হবে। তা না হলে দেশের এ শিল্পটা নষ্ট হয়ে যাবে। এত দিন পরে যেখানে আমরা একটা স্বর্ণ নীতিমালা পেয়েছি, যেখানে আমরা স্বপ্ন দেখছি যেসব কারিগর দেশ থেকে চলে গিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনার, লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করার—এসব স্বপ্ন ভেস্তে যাবে যদি এক বা একাধিক বিদেশি কম্পানি এ দেশে এসে ব্যবসা শুরু করে। এসব কম্পানি যদি বিপুল অর্থের বিনিময়ে সোনার তৈরি অলংকার আমদানি করে ব্যবসা শুরু করে, তাহলে আমরা আমাদের সক্ষমতা তৈরি করতে পারব না। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে স্বর্ণ নীতিমালা করেছিলাম তা অধরা থেকে যাবে। সক্ষমতা বাড়লে বিদেশি কম্পানি আসবে, আমরাও তাদের দেশে গিয়ে ব্যবসা করব। কিন্তু আপাতত পাঁচ বছরের জন্য কোনো বিদেশি কম্পানি ঢুকতে দেওয়া ঠিক হবে না। ট্যাক্স বাড়িয়ে এদের রুখতে হবে।’

আমার বাবা ছিলেন একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আমি জন্মগতভাবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আমি ডিজাইনিংয়ের ওপর খুব আগ্রহী। শারমীন জুয়েলার্সও অনন্য ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দেয়
সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে এনামুল হক বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না। সরকারকে পিওর গোল্ডে ট্যাক্স কমাতে হবে। ভ্যাট কমাতে হবে। ভারতে ভ্যাট ২ শতাংশ, আমাদের এখানে ৫ শতাংশ। আমাদের দেশের একজন মানুষ ১২ হাজার টাকা হলে ভারতে যেতে পারে, চার হাজার টাকা হলে রাতে থাকতে পারে। আর পর্যটক হিসেবে তাদের ভ্যাট শূন্য। কিন্তু আমাদের দেশে বিদেশিদের কেনাকাটা করতে হলে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। কাজেই এ বিষয়টা বিবেচনা করতে হবে। ভ্যাটটাকে অবশ্যই ২ শতাংশের মধ্যে আনতে হবে। আগে সরকার এগুলো করুক, আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াই। যেসব ক্রেতা দেশের বাইরে চলে গিয়েছে তাদের ফেরাই। তারপর সরকারকে কিভাবে লাভবান করা যায় তা আমরা দেখব। কারণ আমাদেরও ভাবতে হবে যে এ দেশকে ঠকানো যাবে না। আমরাও একদিন স্বর্ণশিল্পে নেতৃত্ব দেব।’

বাংলাদেশ স্বর্ণ কারুকাজের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে রপ্তানির কতটুকু সুযোগ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কারিগররা যে হাতে সোনার অলংকার তৈরি করেন, তা পৃথিবী বিখ্যাত। পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোনো স্থান নেই, যেখানে আমাদের মতো স্বর্ণালংকার প্রস্তুত করতে পারে। কিন্তু পলিসির কারণে আমরা রপ্তানি করতে পারছি না। আমাদের মেকিং চার্জ অনেক বেশি পড়ে যায়। কারণ কাজের ভলিউম অনেক কম। উত্পাদন ব্যয় কমাতে হলে আমাদের রপ্তানি করতে হবে। কিন্তু আমাদের এত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আমরা রপ্তানিতে যেতে পারছি না। কারণ আমরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে সরকার আমাদের কিছু প্রণোদনা দিতে পারে। নগদ অর্থ কিংবা ১০ কেজি স্বর্ণ রপ্তানি করলে ৫০ শতাংশ স্বর্ণ আমদানির ট্যাক্স মওকুফ করে দিতে পারে। এ ছাড়া নানা উপায় আছে।’

তিনি বলেন, আগামী ১০০ বছর দেশে স্বর্ণের বাজার চাহিদা থাকবে। আগামী ২০ বছরে দেশে যে পরিমাণ ক্রেতা বাড়বে তাদের ধরে রাখার মতো পলিসি আমাদের নেই। পলিসি তৈরি করতে হলে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে, ভ্যাট বা ট্যাক্স কমাতে হবে। কারিগরদের জন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে জুয়েলারি বা ফ্যাশনের ওপর কোর্স চালু করতে হবে।

স্বর্ণের বাজারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এনামুল হক বলেন, সোনার বাজার সব সময় থাকবে। কারণ এটি মহামূল্যবান বস্তু। আমরা চাই সোনার দাম কম থাকুক। কারণ এটি কম থাকলে সাধারণ মানুষ তথা মধ্যবিত্তরা এটি ব্যবহার করতে পারে। আর সোনার ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।

শারমীন জুয়েলার্সের বিশেষত্ব সম্পর্কে এনামুল হক খান বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আমি জন্মগতভাবে স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আমি ডিজাইনিংয়ের ওপর খুব আগ্রহী। শারমীন জুয়েলার্সও অনন্য ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দেয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত পজেটিভ নিউজ ২৪ বিডি ২০১৯।  
Theme Dwonload From BanglaThemes.Com
themesba-lates1749691102